হামহাম জলপ্রপাত
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার নৈসর্গিক সৌন্দর্যমন্ডিত একটা পর্যটন স্পট "হামহাম" ভ্রমণ করে ছবি বা ভিডিও ফেইসবুকে আপলোড করা হবে না, এটা কেমন। বহুদিন ধরে এই স্পষ্ট ভ্রমণ করার ইচ্ছাটা মনের মধ্যে উঁকি দিচ্ছিল। নিজের অঞ্চলের একটি চমৎকার পর্যটন স্পষ্ট কিন্তু ভ্রমণ না করেই এতোদিন কিভাবে পার হলো, এটাই আফসোস। যাক শেষপর্যন্ত ভ্রমণটা সম্পন্ন করতে পারলাম। তার জন্য শতভাগ ধন্যবাদ দিতে হয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিস্টেম এনালিষ্ট জনাব সাখাওয়াত হোসেন স্যারকে। তিনি ঢাকা থেকে না আসলে এটা আর সম্ভব হতো না। আর গাইড হিসাবে সাথে ছিল গোলের হাওর গ্রামের রবিন সিংহ।
এনজয় করার মতো একটা এডভেঞ্চার। আমরা আজ বেরিয়ে পড়েছিলাম সকাল ৮.৩০ টার দিকে। সাথে ব্যাগে নিলাম সামান্য হালকা খাবার পানি, বিস্কুট ও কেক।চাম্পারায় চা বাগানের কলাবন স্পটে গিয়ে পৌছালাম ১০ টায়। সেখান থেকে হামহাম পর্যন্ত যেতে সব মিলিয়ে ২ ঘন্টা। উঁচু নিচু আর ঢালু পাহাড়ি পিচ্ছিল পথ, ছড়া, জঙ্গল পেরিয়ে শেষপর্যন্ত পৌছালাম কাঙ্খিত হামহামে। পানি একটু কম কারণ বৃষ্টির সিজন পুরোপুরি শুরু হয় নাই। তবে সারা বছরেই এই ঝর্ণায় কম বেশি পানি থাকে। যাবার সময় এনার্জি লেভেল ছিল শতভাগ। ফেরার পথে তা দাঁড়াল পঞ্চাশ ভাগে।
সবার ভ্রমণের জন্য সুযোগ তৈরি করতে এখানে একটু কাজ করা জরুরি। তা না হলে মহিলা কিংবা দূর্বল মানুষদের জন্য হামহাম ভ্রমণ কঠিন একটা কাজ। এইরকম পর্যটন স্পটগুলোকে দেশি বিদেশি ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের নিকট আকর্ষণীয় করে তুলতে আরো কিছু সংস্কার সাধন জরুরি। আর এই স্পটের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিকেও খেয়াল রাখা দরকার। সরকারের রাজস্ব আয়েরও একটা সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। এক্ষেত্রে এই অঞ্চলে সরকারী বা বেসরকারি হোটেল মোটেল করা কিংবা প্যাকেজ ট্যুরের ব্যবস্থা করা যায় কিনা ভাবতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই